আমার একটা তুমি চাই

এই যে প্রিয়,

তুমি জানো কি? আমি রোজ কল্পনার গহীন অরণ্যে তোমাকে খুঁজি। সেখান থেকে তুমি যদি একদিন সত্যি সত্যি বেরিয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়াও, তবে আমার সমস্ত স্বপ্ন গুটিয়ে আমি তোমার বুকেই মাথা রাখব। সেই বুকে এক অদ্ভুত প্রশান্তির ঘ্রাণ, যেন ভোরের প্রথম শিশির, যেন মাটির গন্ধ মাখা কোনো চিরন্তন আশ্রয়। আমার এমন একটা তুমি চাই, যে তুমি আমার ভেতরের সব কলুষ ধুয়ে গড়ে তুলবে ভালোবাসার এক নির্মল চরিত্র, যেখানে থাকবে না কোনো কৃত্রিমতা, শুধুই তোমার পরশে পবিত্র হয়ে ওঠা আমি। তুমি কি জানো প্রিয়? তোমার চোখ দুটো যেন অতলান্তিক সাগরের চেয়েও গভীরতর ভালোবাসায় ভরা। আমি সেই গভীরতায় তলিয়ে যেতে চাই, কিন্তু তুমি কখনো আমাকে বিষাদসমুদ্রে ডুবতে দেবে না। অন্ধকার মরুভূমির পথ যখন চেনা থাকবে না, তখন তোমার উষ্ণ হাতটি আমার হাতের ভেতর রেখে তুমি বলবে, “ভয় নেই, আমি আছি।” আলোহীন পথেও তুমি হবে আমার প্রদীপ। আমার সব ভুল, আমার সব অক্ষমতা, আমার অন্ধকার দিকগুলোকে তুমি এমনভাবে ক্ষমা করবে, যেন বৃষ্টি এসে ধুয়ে দেয় পাতার জমে থাকা ধুলো। তারপর তুমি আমাকে বুকে জড়িয়ে নেবে তোমার কোমলতায়, সে জড়িয়ে নেওয়া যেন এক নতুন জন্ম দেওয়া, যেখানে আমি শিখি কী করে ভালোবাসতে হয়? কী করে নিজেকে সংস্কার করতে হয়? এই যে প্রিয় তুমি কি জানো? আমি একটা তুমি চাই, যাকে কেন্দ্র করে আমি লিখতে পারি আমার ‘প্রত্যাবর্তনের গল্প’। পথ হারানো এক পথিকের আবার ঘরে ফেরার আখ্যান। যে তুমির কাছে আমি কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলতে পারি আমার বুকের গহীনে জমে থাকা সব কথা, সব অভিমান, সব না-কান্নার দীর্ঘশ্বাস। রাত যখন নিদ্রাহীন, আকাশ যখন তারার মেলা বসায়, আমি তোমার কোলে মাথা রেখে একে একে তারা গুনতে চাই; আর তুমি আঙুল ছুঁইয়ে বলবে, “ওটা তুমি, ওটা আমি।” এমন করে সময় গলে পড়ুক অমল জ্যোৎস্নায়। এই যে প্রিয়, আমার এমন একটা তুমি চাই, যে আমার মনের শুকিয়ে যাওয়া বৃক্ষের বাগানটিকে তার ভালোবাসার দক্ষ জল দিয়ে আবার সবুজে রাঙিয়ে দেবে। যে বাগানে এখনো কাঁটা আছে, সেখানে তুমি ফুটিয়ে তুলবে অগুন্তি গোলাপ। আমি তোমাকে বলতে চাই না, অথচ তুমি বুঝবে কেন এতদিন বাগান পড়ে ছিল মরুদ্যানহীন। তুমি হাসিমুখে পরিচর্যা করবে, যেন তুমিই জানো, এ বাগানে প্রেম ছাড়া আর কিছুই জন্মায় না। এই যে প্রিয়, তুমি কি জানো? তুমি আমার অযুত রাতের কান্না, যে কান্না কেউ দেখেনি, বালিশ শুষে নিয়েছে, সেসব তুমি মুছে দেবে তোমার ভালবাসায়, কিংবা শুধু এক টুকরো মায়াবী স্পর্শে। তারপর আমার চোখের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে দেবে; সে হাসি যেন গোপন বেদনার ওপর প্রজাপতি হয়ে বসে থাকা। ভালোবাসার হস্তান্তর বলতে যা বোঝায়, তুমি আমার হৃদয়ের অন্তস্থলে নিজের নাম লিখে যাবে, এমন গভীরে, যেখানে কালিও জানে না কী করে নাম মুছতে হয়। তুমি হবে আমার অন্তরের স্থায়ী ঠিকানা।

এই যে এত এত অপেক্ষা, প্রতীক্ষার দীর্ঘশ্বাস, তা যেন একদিন অবসর পায়। আমার একটা ভালোবাসার মানুষ চাই, যে মানুষ কেবল কল্পনার পৃথিবীতে নেই, বাস্তবের নিঃশ্বাসে আছে, ছুঁতে পারি, কাছে টেনে নিতে পারি। আমি চাই রাতবিরেতে ঘুম ভাঙানোর তুমি, যে বলবে, “এই, একটা গল্প বলি?” সেই গল্পে থাকবে ছেলেবেলা, থাকবে নদী, থাকবে আকাশ দেখার স্মৃতি, থাকবে কাঁচা রোদের মতো মায়া। আমি চাই এমন বন্ধু, এমন প্রিয়, যার কাছে কোনো মুখোশ নেই। তুমি আমার অন্তরঙ্গ আকাশ।

আমার একটা তুমি চাই, যে তুমি আমার কল্পনাকে ছাপিয়ে একদিন দরজায় দাঁড়াবে, আর আমি চিনে নেব সেই চোখ, সেই হাসি, সেই গন্ধ। ততদিন পর্যন্ত, প্রিয়, তুমি আমার লেখায় বেঁচে থেকো।

 

ইতি

তোমার অপেক্ষমান

রোজ

Related Blogs

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *